কুয়েতে ঘুষ নেওয়া তিনজনের নাম প্রকাশ এমপি পাপুলের

0

কুয়েতে মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের আলোচিত-সমালোচিত সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের নানা দুর্নীতি আর রহস্যের জট উন্মোচিত হচ্ছে। সর্বশেষ বেরিয়ে এসেছে এক লাখ দিনারের ব্যাগভর্তি উপহার ছাড়াও এক সরকারী কর্মচারীকে চেকের মাধ্যমে ১১ লাখ দিনার এবং আরো এক ব্যক্তিকে এক লাখ দিনার করে দিয়েছেন পাপুল।

আরব টাইমস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল মুখ খুলছেন। ঘুষ নিয়ে কুয়েত সরকারের যেসব কর্মকর্তা আইন বহির্ভূত কাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের মধ্যে তিনজনের নাম প্রকাশ করেছেন পাপুল। তার বিস্তারিত স্বীকারোক্তিতে ওঠে এসেছে একটি মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সরকারী কর্মচারী এবং আরো একজন ব্যক্তিকে আর্থিক সুবিধা দেয়া বিষয়টি।

আগের খবর : কুয়েতের ৭ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়েছিলেন এমপি পাপুল!

প্রতিবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে পাপুল জানিয়েছেন, কুয়েতি মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা যেদিন ক্লিনিং কম্পানিতে পাপুলের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন, সেদিন সেখানকার সব কুয়েতি কর্মীকে ছুটি দেওয়ার কথা বলেছিলেন, যাতে তাকে কেউ চিনতে পারে। ওই কর্মকর্তার কথামতো পাপুল স্থানীয় কর্মীদের ছুটিও দিয়েছিলেন। সেখানেই তাকে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে কর্মকর্তার কথা প্রকাশ করেছেন পাপুল, তিনি জানিয়েছেন, ওই কর্মকর্তাকে ১১ লাখ কুয়েতি দিনার প্রদান কর হয়। এর মধ্যে ১০ লাখ কুয়েতি দিনারের একটি চেক ছিল। বাকি এক লাখ দেওয়া হয় নগদ। বিনিময়ে তিনি তাকে অবৈধভাবে কর্মী নিতে সহায়তা করেছিলেন তিনি। জানা গেছে, কুয়েতি পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে সেই চেকের কপিও উপস্থাপন করেছেন এমপি পাপুল।

তদন্ত কর্মকর্তারা ওই মামলায় কুয়েতের অন্তত সাতজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার ব্যাপারে জানতে পেরেছেন। তাঁদের মধ্যে কুয়েত সরকারের তিনটি বিভাগের প্রধানও আছেন। তাঁদের কেউ কেউ অবসরে গেছেন। ঘুষ ও উপহার দিয়ে এমপি পাপুল কুয়েতে তাঁর অপকর্মের নেটওয়ার্ক চালাতেন।

আরব টাইমসের প্রতিবেদনে একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এমপি পাপুলের কয়েক লাখ দিনার পাঠানোর তথ্য দেওয়া হয়েছে। কুয়েতের ব্যাংকের ওই লেনদেন সন্দেহজনক বলেই চিহ্নিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধরা পড়ার আশঙ্কায় এমপি পাপুল কুয়েত থেকে অপকর্মের নেটওয়ার্ক গুটিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এই মামলায় প্রত্যক্ষ সাক্ষী দেয়া ১২ জনের ১১ জন কুয়েত ত্যাগ করেছেন। বাকি একজন বাংলাদেশি নাগরিক তার সহকর্মীদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা আদায়ের পর গা-ঢাকা দেন। কুয়েতে পাপুলের পক্ষে আইনজীবী নাসের আল-হাসবান যেকোনো গ্যারান্টির বিনিময়ে তার জামিন আবেদন করেন। আদালতকে তিনি বলেন, তাকে জামিন দেওয়া হলে তিনি কুয়েত ত্যাগ করবেন না।

মুদ্রাপাচার ও মানবপাচারের অভিযোগে গত ৬ জুন শনিবার রাতে মুশরিফ আবাসিক এলাকা থেকে এমপি পাপুলকে গ্রেপ্তার করে কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত সোমবার রিমান্ডের আবেদন করলে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের বিচারক তা মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে পাপুলের পক্ষে জামিনের আবেদন নাকচ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার পাবলিক প্রসিকিউশন তদন্তের প্রয়োজনে রবিবার পর্যন্ত পাপুলকে রিমান্ড রাখার আদেশ দেয়। মামলায় সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা ওঠে আসায় রবিবার তাকে তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখার আদেশ দিয়েছে এই আদালত।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Loading...