কুয়েতে সাংসদ পাপুলের মামলার তদন্তে নাক গলাবে না বাংলাদেশ দূতাবাস
মানব ও অর্থ পাচারের দায়ে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশি সাংসদ মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামের (কাজী পাপুল) বিরুদ্ধে কুয়েতি সরকারের তদন্তে হস্তক্ষেপ করবে না বাংলাদেশ দূতাবাস, দেশটির দৈনিক পত্রিকা আরব টাইমসকে এমনটি জানিয়েছেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাংসদ কাজী পাপুলর বিরুদ্ধেও সব অভিযোগ কুয়েতি কর্তৃপক্ষ থেকে আনা হয়েছে এবং দূতাবাস থেকে এই গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে কোনো ধরনের সহায়তা দেবে না বাংলাদেশি দূতাবাস।
তিনি আরো বলেন, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি খালেদ আল জারআল্লাহর সাথে এ বিষয়ে এখনো কোন আলোচনা করেননি তিনি।
আবুল কালাম আরো বলেন, আটক সাংসদ এখনো কারাদন্ডের ভোগ করছেন কিনা সে বিষয়টি তিনি নিশ্চিত নয়। তবে তিনি জানিয়েছেন শহীদ ইসলাম এখনো দূতাবাসের সাথে কোন যোগাযোগ করেন নি।
এদিকে কুয়েতের আল-রাই ডেইলি জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রাখতে এই বাংলাদেশি সাংসদকে গ্রেফতার রাখতে দেশটির সরকারি প্রসিকিউশন নির্দেশ দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অর্থ পাচারের পাশপাশি অভিযোগ আছে বিপুল পরিমাণ অদক্ষ শ্রমিককে কুয়েতে আনার। আর এসবই তিনি করেছেন তার সহযোগীর সাথে যোগসাজশে।
এদিকে অভিযুক্ত সাংসদ পাবলিক প্রসিকিউশনকে জানিয়েছে, তিনি গেল ১০ বছর ধরে কুয়েতে কাজ করছেন এবং তার বৈধ বসবাসের অনুমতি রয়েছে ।
কুয়েত টাইমসের সূত্রমতে জানা গেছে, গ্রেফতার সাংসদ কাজী পাপুল জানিয়েছেন, তিনি একটি ক্লিনিং কোম্পানির অংশীদার, যেখানে তিনি একজন কুয়েতি তার পার্টনার। সেই কোম্পানিতে পাপুল জেনারেল ম্যানেজার এবং তার দাবী কুয়েতে বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ প্রদান করে তার কোম্পানি সহায়তা করেছে। তিনি কারো কাছ থেকে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বলেন, তিনি তার দেশবাসীকে জীবিকা নির্বাহের জন্য সাহায্য করছেন।
শহীদ ইসলাম পাবলিক প্রসিকিউশনে সাত বাংলাদেশির দেয়া জবানবন্দি অস্বীকার করেন। তাদের অভিযোগ ছিল প্রত্যেকের কাছ থেকে শহীদ ইসলাম ২৫০০ দিনার করে আদায় করে তাদের নিজ কোম্পানিতে গাড়িরচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও পরে তারা কুয়েতে গেলে নিজ দায়িত্বে চাকরি খুঁজে নেয়ার কথা বলেন শহীদুল। তারপর যখন তাদের আকামা নবায়নের সময় আসে তখন এই সাংসদ তাদের কাছে থেকে আবারো অর্থ দাবী করে বসে।
তাদের এই স্বীকারোক্তির প্রেক্ষিতে মুদ্রাপাচার ও মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গত শনিবার পাপুলকে দেশটির মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল সোমবার রিমান্ডের আবেদন করলে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের বিচারক তা মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে পাপুলের পক্ষে জামিনের আবেদন নাকচ করা হয়।
কুয়েতপ্রবাসি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম (কাজী পাপুল) ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শহিদ আওয়ামী লীগ থেকে মনোয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু মহাজোটের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ নোমানকে নির্বাচনে এই আসন থেকে সমর্থন দেওয়া হলে শহিদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপেল প্রতীকে নির্বাচন করেন। তবে মাঝপথে এসে নির্বাচন থেকে মোহাম্মদ নোমান সরে দাঁড়ালে স্বতন্ত্রপ্রার্থী মোহাম্মদ শহিদ ইসলামকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থন দেয়। পরবর্তীতে তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-৪৯ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
আগের খবর
কুয়েতে বাংলাদেশের সাংসদ কাজী পাপুল রিমান্ডে
কুয়েতে মানবপাচারের অভিযোগে সংসদ সদস্য কাজী পাপুল গ্রেপ্তার
কুয়েত থেকে পালিয়েছেন বাংলাদেশি সাংসদ!


