করোভাইরাসে বাতিল ২ লাখেরও বেশি ফ্লাইট

0

করোভাইরাস বা কোভিড ১৯ এর প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সারা বিশ্বে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যাও। ভ্রমণ ও ফ্লাইট তথ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান সিরিয়াম-এর মতে, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত বাতিল হয়েছে ২ লাখেরও বেশি ফ্লাইট।

২০১৯-এর শেষ দিক থেকে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে এর প্রকোপ। চীন এই প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র হওয়ায় দেশটির সাথে ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে আনে এয়ারলাইন্সগুলো।

সবশেষ ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ চীনের সাথে তাদের ফ্লাইট স্থগিত রাখার তারিখ বাড়িয়ে আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিমানসংস্থাটি হংকংয়ের সাথে নিয়মিত ফ্লাইট চালু রেখেছে।

সিরিয়াম আরো জানায়, করোভাইরাস প্রাদুর্ভাবের ফলে চীনে নিয়মিত যাতায়ত করা ২ লাখেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে যা দেশটিতে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের পূর্ব নির্ধারিত ফ্লাইট সংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ।

চীনে করোনাভাইরাস আতংক শুরুর প্রথম ছয় দিনে ১০ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয় আতংকে ছয় দিনে ১০ হাজার ফ্লাইট বাতিল
চীনে করোনাভাইরাস আতংক শুরুর প্রথম ছয় দিনে ১০ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়

মূলত জানুয়ারির ২৩ তারিখ থেকে চীনের উহান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ করে দেশটির সরকার। সেই থেকে ধীরে ধীরে চীনের আকাশে কমতে থাকে ফ্লাইটের সংখ্যা। ২৮ শে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম ৬ দিনেই বাতিল হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ফ্লাইট।

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) তথ্য মতে, বিশ্বের ছোট বড় মিলিয়ে ৭০টি চীন থেকে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং আরো ৫০টি এয়ারলাইনস সম্পর্কিত বিমান পরিচালনা বন্ধ করেছে। ফলে সরাসরি চীন থেকে আসা বিদেশিদের জন্য বিদেশি বিমান সংস্থার সক্ষমতা ৮০ শতাংশ কমেছে এবং চীনা এয়ারলাইনসের ধারণক্ষমতা কমেছে ৪০ শতাংশ।

আইকাও ধারণা করছে চলমান কোভিড ১৯ -করোভাইরাসের মহামারীতে এভিয়েশন খাতে লোকসান হবে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার।

জানা গেছে, ১৮ই এপ্রিল পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ফ্লাইট। বাকি ১ লাখ ফ্লাইটের শিডিউল পরিবর্তন করে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া হয়েছে।

করোভাইরাস প্রাদুর্ভাবের উৎসস্থল চীনে হলেও বিশ্বব্যাপী এই মহামারীর প্রভাব পড়েছে। চীনের মত বড় এভিয়েশন বাজার প্রভাবিত হওয়ায় সারা বিশ্বের বিমান চলাচলেও নেমেছে ধ্বস।

চীনে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা
চীনে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা

সিরিয়াম এর জ্যৈষ্ঠ পরামর্শক রিচার্ড ইভান্স এ ব্যাপারে মন্তব্য করে বলেছেন, “বছরের প্রথম আট সপ্তাহ ধরে সিরিয়াম-এর শিডিউল ডাটা থেকে দেখা যায় যে বিমান চলাচলের বৈশ্বিক সক্ষমতা ২০১৯ এর তুলনায় ০.৯ শতাংশ কমে গেছে।

ইভান্স যোগ করেন, “আমরা এখন চীনের বাইরেও এর প্রভাব দেখছি । চীনাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় অবসর কাটানোর দেশ থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম এবং কম্বোডিয়াতে এ পর্যন্ত ৭০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিগ থ্রি এয়ারলাইন্স হিসেবে পরিচিত আমেরিকান, ইউনাইটেড এবং ডেল্টা এয়ারলাইন্স এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত চীনে তাদের ফ্লাইট সেবা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। যদিও তারা এই বাতিলের পেছনে আংশকাজনক হারে যাত্রী কমে যাওয়ার যুক্তি দিয়েছে। তবে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মতো এই সংস্থাগুলো হংকংয়ের সাথে কোন ফ্লাইট যোগাযোগ রাখেনি।

বর্তমানে বেশিরভাগ ফ্লাইটই বাতিল করা হয়েছে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত। তবে পরিস্থিতি কেমন হয় তার উপর নির্ভর করে এসব বাতিলের তারিখ আরো পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Loading...