করোনা প্রভাবে জৌলুস হারিয়েছে সিঙ্গাপুর এয়ার শো

0

অর্থনীতি ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা আশংখা,করোনার প্রাদুর্ভাবে ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে এশিয়ার এভিয়েশন খাত। চীনের এই ভাইরাস লোকসানের ইঙ্গিত বয়ে নিয়ে এসেছে এই অঞ্চলের বিমানসংস্থাগুলো দিকে। বলা যায়, এর প্রভাবেই এবার মলিন হয়েছে এভিয়েশন খাতের অন্যতম আয়োজন সিঙ্গাপুর এয়ার শো। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার উদ্বেগের মধ্যে শুরু হওয়া এই ইভেন্টের ৫ম আসরে অংশ নেয়নি অনেক প্রতিষ্ঠানই।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিঙ্গাপুরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এনজি ইঞ্জিন হেন এবং পরিবহণমন্ত্রী খা বুন ওয়ান যৌথভাবে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন ৫ দিনের সিঙ্গাপুর এয়ার শো ২০২০ । উদ্বোধনী দিনেই আশানুরুপ ছিল না শো অংশগ্রহনকারীর মতো দর্শনার্থীরও আগমন।

সিঙ্গাপুরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং পরিবহনমন্ত্রী যৌথভাবে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন সিঙ্গাপুর এয়ার শো ২০২০
সিঙ্গাপুরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং পরিবহনমন্ত্রী যৌথভাবে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন সিঙ্গাপুর এয়ার শো ২০২০

এশিয়ার শীর্ষ এই এভিয়েশন ইভেন্টে চীনা বিমান সংস্থাগুলোর জন্য জায়গা বরাদ্দ থাকলেও সেসব স্থান ফাঁকা পড়ে আছে। অন্যরাও অনেকে শো’তে আসার কথা থাকলেও শেষমেশ আসেনি। ফলে সবমিলিয়ে এবারের আয়োজন যেন জোলুস হারিয়েছেি।

প্রদর্শনী হলে হেলিকপ্টার প্রস্তুতকারক বেলের বুথটি খালি পড়ে আছে। অন্যদিকে মাঝখানে এয়ার শোর সবচেয়ে বড় একটি বড় জায়গা খারি পড়ে আছেভ। এটি সম্ভবত লকহিড মার্টিনের জন্য বরাদ্ধ ছিল। অবশ্য এয়ারবাস এবং বোয়িংয়ের মতো বৃহত সংস্থাগুলি প্যাভিলিয়নে কিছুটা ভিড় দেখা গেছে।

শিল্প পর্যবেক্ষকরা বলেছেন যে, এবারে শোতে আগের বছরগুলির তুলনায় অংশগ্রহনকারী ও দশনার্থীর সংখ্যা “উল্লেখযোগ্য” পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। আগের মতো দর্শনার্থীদের মদ্যে ‘ধাক্কা ধাক্কি ‘বা ‘কুইয়ের গুতোর’ মতো বিষয়গুলো দেখা যাচ্ছে না।

একেকটি এয়ার শো’কে ঘিরে সাধারণত টান টান আগ্রহ আর নানা ঘোষণার অপেক্ষায় থাকে মানুষ, যেখানে ধরা হয়ে থাকে এয়ার শোগুলো হল এভিয়েশন শিল্পের উপর ভোক্তাদের আত্মবিশ্বাসের মাপকাঠি যেটি হাজারো মানুষকে এক বলয়ে আবদ্ধ করে। সে হিসেবে এবারের শো’তে খুব কমই মুনাফা আর ব্যবসায় হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি এভিয়েশন প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে,করোনার প্রভাবের আলামত মিলেছে শো শুরু হওয়ার আগেভাগেই। তাদের মতে,এই সঙ্কটের আগে যে প্রত্যাশা ছিল তার তুলনায় চীনের সাথে সব ধরনের রুটে ফ্লাইট সংখ্যা ২৪% কমে গেছে ।

উদ্বোধনী দিনেই আশানুরুপ ছিল না  দর্শনার্থীর আগমন
উদ্বোধনী দিনেই আশানুরুপ ছিল না দর্শনার্থীর আগমন

আরো দুঃসংবাদ হল, বিমানসংস্থাগুলো বছরের এই সময় সাধারণত যে পরিমাণে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করে এখন তার তুলনায় এটি অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ থেকে ধরে নেয়া যায়, এশিয়ান এয়ারলাইন্সগুলোর টিকেট বিক্রি কম ও বুকিং বাতিল হওয়ায় ২০২০ সাল তাদের জন্য কমবেশি ক্ষতি বয়ে নিয়ে আসবে।

বিশ্বে একাধিকবার শীর্ষস্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে যাত্রীদের আগমন করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সিঙ্গাপুর ট্যুরিজম বোর্ডের (এসটিবি) অনুমান যাত্রীদের আগমন প্রতিদিন ১৮ হাজারের থেকে ২০ হাজার নেমেছে এবং আরও কমতে পারে।। এই পরিসংখ্যানই তো বলে দেয় এবারের এয়ারশো কতটুকু জমতে পারে।

এদিকে শো’তে চীনা প্রতিষ্ঠানের তেমন কোন অংশগ্রহণ না থাকলেও চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের (পিএএফ) একটি দল এয়ারশো’তে মিডিয়া ডিসপ্লে অংশে ৯ ফেব্রয়ারি তাদের কিছু উড্ডয়ন কসরত প্রদর্শন করে।

এয়ার শো’র আয়োজকরা রবিবারও আশা করেছিলেন অন্তত ৪৫ টি দেশ থেকে তাদের শো’তে অংশ নেবে কমপক্ষে ৯৩০ টি প্রতিষ্ঠান। এবার বাণিজ্যিকভাবে ৪৫ হাজার অংশগ্রহণকারি থাকছে জানিয়েছেন আয়োজকরা যেটি ২০১৮ সালেছিল ৫৪ হাজার। তবে উদ্বোধনী দিনের চিত্র দেখে এ নিয়ে আশংখা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

সিঙ্গাপুর এয়ার শোতে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ প্রদর্শনী। ছবি : এয়ারবাস
সিঙ্গাপুর এয়ার শোতে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ প্রদর্শনী। ছবি : এয়ারবাস

অন্যান্য সময় অংশগ্রহণকারিদের ভীড়ে এখানকার বড় বড় হোটেলগুলো ব্যস্ত থাকলেও এবার যেন তা অনেকটাই ফাঁকা। এইদিকে এই শো নিয়ে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে সমালোচনা করে জানিয়েছে যে সরকার জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বড় ধরনের জমায়েতে না করার নির্দেশনা দিলেও কিভাবে এই শো দিব্যি চলছে তা তাদের বোধগম্য নয়।

যদিও আয়োজকরা বলছেন, দীর্ঘ বছর ধরে এভিয়েশন খাতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা এই শো’তে যারা অংশ নেয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তাদের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই এই শো’র চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত।
এরোস্পেস-এর সাথে জড়িত আর্থিক এবং কৌশলগত প্রতিফলনের প্রতিফলন, এই ধরনের দ্বিবার্ষিক ঘটনা সংগঠিত করার জন্য সস্তা নয় ।

বিমানসংস্থার প্রতিনিধিরা নতুন উড়োজাহাজের খবরা খবর নিচ্ছেন
বিমানসংস্থার প্রতিনিধিরা নতুন উড়োজাহাজের খবরা খবর নিচ্ছেন

প্রসঙ্গত এই শো’র আয়োজন করাটা বেশ ব্যয়বহুল ব্যাপার। কারণ এটির সাথে জড়িত থাকে আকাশপথে সেবা দেয়া অনেক নামীদামী প্রতিষ্ঠান।

এ ব্যাপারে ধারণা দিতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বিমানসংস্থার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ধরনের বিশ্বখ্যাত শো’তে অংশ নিতে সাধারণত বিমানসংস্থাগুলোকে এক মিলিয়ন ডলারের মত খরচ করতে হয়। আর বড় নির্মাতাদের ক্ষেত্রে সেখানে যাওয়া, স্থান বরাদ্দ ও অন্যান্য সব খরচ মিলিয়ে তা ২ থেকে ৫ মিলিয়নও হতে পারে। তাই শো’তে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়েছে তারা প্রত্যেকেই কয়েক মিলিয়ন ডলার ফেরত পাবে।

এদিকে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Loading...