করোনাজয়ী কোরিয়ায় ফিরছে দেশে আটকেপড়া প্রবাসীরা

0

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ছুটিতে গিয়ে দেশে আটকেপড়া প্রায় ৩০০ কোরিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিকে ফেরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রচেষ্টা অবশেষে আশার আলো দেখছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে কোরিয়ান একটি চার্টারে উড়োজাহাজে দেশে আটকেপড়া প্রবাসীরা ফিরে আসবেন মুন জে ইনের করোনজয়ী কোরিয়ায়, এমনটি নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে এ প্রক্রিয়া যুক্ত দপ্তর ও সংস্থা সূত্র থেকে।

গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে আটকেপড়া প্রবাসীদের কোরিয়ায় ফিরিয়ে আনতে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগ যুক্ত হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বোয়েসেল। বাংলাদেশ দূতাবাস আটকাপড়া প্রবাসীদের নাম ঠিকানাও সংগ্রহ করে।

ছুটিতে গিয়ে আটকেপড়া এক প্রবাসী বলেন,‘আমরা করোনাভাইরাসের কারণে বিপাকে পড়েছি। না পারছি ঘর থেকে বের হতে না পারছি নিত্যদিনের কাজ চালিয়ে যেতে। বর্তমান পরিস্থিতেতে সারাবিশ্বে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে রয়েছে। মানুষ কোয়ারেন্টাইনে কিংবা আইসোলেশনে থাকবে এমনটা ভাবিনি’।

তিনি বলেন,‘কোনোরকম প্রস্তুতি না নিয়ে দেশে এসেছিলাম। বিশ্বের নানা প্রান্তে, নানা দেশে। আমাদের মতো প্রবাসীরা ছুটিতে দেশেই এসে আটকা পড়েছে। কীভাবে চাকরি বাঁচাব, বিশ্ববিদ্যালয় সেশনের কী হবে কিছুই বুঝছি না। এখন আমরা খুবই চিন্তিত, আতঙ্কিতও’।

সিউলস্থ বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম ঢাকায় ও কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ করছেন, বারংবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েকে চিঠি লিখছেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে লেখা চিঠিতে জানান, কোরিয়ায় বাংলাদেশি কমিটেড ও ছুটিতে যাওয়া বাংলাদেশি ইপিএস কর্মীরা দ্রুত কর্মস্থলে ফিরে আসুক সেটিই চায় কোরিয়ান মালিকরা।

তিনি চিঠিতে আরো উল্লেখ করেন, রেমিটেন্স প্রবাহ অব্যাহত রাখতে জরুরি ভিত্তিতে স্পেশাল ফ্লাইটে বাংলাদেশে আটকে থাকা কর্মীদের সহসা কোরিয়ায় ফেরত পাঠাতে অনুরোধ জানান।একই সাথে কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ও কোরিয়ান এভিয়েশন সংশ্লিষ্ট অফিসেও চিঠি লিখেন রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম।

রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম বলেন, ‘দূতাবাসের অনুরোধে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিছুদিনের মধ্যে চার্টার বিমানে তাদের সবাইকে কোরিয়ায় আনার ব্যবস্থা করছে সরকার। আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে সরকার। এই দু:সময়ে কিভাবে আনা যায় সেটিই দেখছে। দূতাবাস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশ দূতাবাস আটকে পড়াদের আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদিশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একই সাথে কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কিভাবে তাড়াতাড়ি আনা যায় সেই চেষ্টা করছে।

গত বৃহস্পতিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদিশিক মন্ত্রণালয়ের মিটিং করে জানিয়েছেন যে কোন বিমানের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে শীঘ্র আটকে পড়াদের কোরিয়া পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। সে অনুযায়ী মন্ত্রণালয় তৎপর হন।

আকাশযাত্রার সাথে আলাপকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদিশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেন, আমরা আটকে পড়াদের কোরিয়া পাঠাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, বাংলাদেশ বিমানের কোরিয়ায় ল্যান্ডিং অনুমতি না পাওয়ায়, আমরা কোরিয়ান এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ করি, কিন্তু এখনো নির্দিষ্ট কয় তারিখ যাবে সেটি জানা যাইনি। আশা করি শীঘ্রই পাওয়া যাবে”

বোয়েসেলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর, সাইফুল হাসান বাদল ফ্লাইট প্রসংগে জানতে চাইলে, তিনি জানান, “ফ্লাইটের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোরিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে ব্যবস্থা করছে। আমাদের ইচ্ছা যেন মে মাসের ৩ তারিখ কোরিয়ান চার্টারে আটকে পড়াদের পাঠাতে পারি, কেননা অনেকের ভিসা মেয়াদ মে মাসের ৪ তারিখ শেষ, এটি খুবই ক্রুশিয়াল সময়।”

তিনি আরো জানান, কোরিয়ান দূতাবাস যদি সবকিছু সহসা ক্লিয়ারায়েন্স দেয় তাহলে ৩ রা মে আটকে ইপিএস কর্মী ও শিক্ষার্থীরা কোরিয়ার উদ্দেশ্য রওনা হতে পারবে। অন্যথায় দেরিও হতে পারে।

সাইফুল হাসান আরও বলেন, এইচ আর ডি কোরিয়া কিছু নিয়ম কানুন দিয়েছে সঙ্গে কিছু তথ্য চেয়েছে। প্রবাসীরা কোথায় থাকবেন, তাদের নাম, ঠিকানা, মালিকের ফোন নাম্বার, কোম্পানির নাম এই সব তথ্য ঢাকায় কোরিয়ান দূতাবাসে জমা দিতে হবে।”

তিনি জানান, এই যাত্রায় ২৬২ জন যেতে পারবেন যারা কমিটেড, কোম্পানি থেকে ছুটি নিয়ে দেশে বেড়াতে এসেছে এবং ছুটিতে আসা শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে কোরিয়া থেকে ১০২ জনের নতুন করে জব অফার এসেছে তারা কোরিয়ার পরিস্থিতি আরো ভালো হলে যেতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সব ঠিক থাকলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে কোরিয়ান চার্টার বিমানে আটকেপড়া কোরিয়া প্রবাসীরা ফিরে যাবেন।

উল্লেখ্য, গেল ২৪ ঘন্টায় দেশটিতে করোনায় নতুন করে কেউ করোনা আক্রান্ত হয়নি। কোরিয়া সেন্ট্রাল ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের দেওয়া তথ্য মতে গেল দু মাসের মধ্যে এবারই প্রথম ২৪ ঘন্টায় নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার যে চার জনের শরীরে করোনার জীবাণু পাওয়া যায় তাদের সবাই বাইরের দেশ থেকে এসেছে। এ নিয়ে দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৭৬৫। করোনায় মৃতের সংখ্যা ২৪৭।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Loading...