ওমানে রুক্ষ পাহাড়ে ৩২ জাতের ফলের স্বর্গরাজ্য গড়লেন এক কৃষক

ওমানের সর্বোচ্চ পর্বত জাবাল শামস-এর রুক্ষ ও ঠান্ডা অঞ্চলে এক ওমানি কৃষকের অবিশ্বাস্য সাফল্য মুগ্ধ করছে সবাইকে। ওমানি কৃষক আসাদ বিন নাসের আল খাত্রি প্রায় ৩২ জাতের ফল চাষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে এক অপূর্ব সবুজ স্বর্গরাজ্যের সৃষ্টি করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের কৃষিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০০০ মিটার উপরে অবস্থিত, জাবাল শামসের গ্রামগুলি তাদের স্বতন্ত্র জলবায়ুর জন্য পরিচিত – গ্রীষ্মে শীতল এবং শীতকালে ঠান্ডা থাকে, যা পিচ এবং খুবানি জাতীয় পাথরজাত ফল চাষে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত দার আল সৌদা গ্রামের পরিবেশ বছরের বেশিরভাগ সময়েই শীতল, যা পীচ, খুবানি ও বরইয়ের মতো পাথরজাত ফল চাষে এই জলবায়ুর সদ্ব্যবহার করে এখানকার দার আল সৌদা গ্রামের বাসিন্দা আসাদ বিন নাসের পাহাড়ের রুক্ষ জমিতে সফলভাবে ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন।

Travelion – Mobile

“আমি এখানে বিভিন্ন ধরণের ফলের চাষ করতে পেরেছি, যার মধ্যে রয়েছে আঙ্গুর, খুবানি এবং বিভিন্ন ধরণের বরই – কালো, হলুদ এবং নীল”, কৃষক আসাদ বলেন।

“গাছগুলো সাধারণত দুই থেকে তিন বছর বাঁচে। আমি ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেছি, বিরল ফলের জাত আমদানি করেছি এবং ড্রিপ সেচের মতো উন্নত কৌশল শিখেছি”, তিনি যোগ করেন।

তিনি বলেন, “এই অঞ্চলে ফেব্রুয়ারিতে গাছে ফুল ফোটে, যা এপ্রিল-মে মাসে ফল আকারে পরিণত হয়। আমার প্রতিটি খুবানি গাছ থেকে বছরে ৩০ থেকে ১০০ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। আর পিচ গাছগুলি রসালো এবং মিষ্টি বড় ফল দেয়।”

Diamond-Cement-mobile

জাবাল শামসের পাহাড়ি গ্রামগুলোতে ঐতিহ্যগতভাবে আঙ্গুর, বেরি এবং ডালিম চাষ হয়। এখানকার কৃষিপণ্য কাছাকাছি আল হামরা বাজারে বিক্রি হয় এবং পর্যটকরাও এই তাজা ফলের স্বাদ নিয়ে থাকেন।

কীটপতঙ্গ দমনে আসাদ পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি বেছে নেন। তিনি বলেন, “আমি এমন কীটনাশক ব্যবহার করি যা প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি না করে কার্যকরভাবে ফল রক্ষা করে।”

বর্তমানে তিনি নিজের খামারকে কেন্দ্র করে কৃষি-ভিত্তিক পর্যটন গড়ে তুলতে চান। তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে: পর্যটকদের জন্য নির্দেশিত খামার ভ্রমণ, ফল সংগ্রহে অংশগ্রহণ,
আশপাশের পাহাড়ে ট্রেকিংয়ের ব্যবস্থা।

“জাবাল শামস শুধু পাহাড় নয়, এটি এক পূর্ণ সংবেদনশীল অভিজ্ঞতা—তাজা বাতাস, নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং তাজা পাহাড়ি ফল। এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ওমানি কৃষি-পর্যটনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে,” বলেন আত্মবিশ্বাসী কৃষক খাত্রি।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কেবল পাহাড়ি কৃষিকে নয়, ওমানের টেকসই পর্যটন খাতকেও নতুন সম্ভাবনার মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে।

সব খবর জানতে, এখানে ক্লিক করে আকাশযাত্রার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকার অনুরোধ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!