ওমানে প্রবাসীদের পরিত্যক্ত গাড়িতে পরিবেশগত ঝুঁকির আশংখা

0

ওমানে এমন একটা সময় আসছে, যেখানে সরকারি বা বেসরকারি পার্কিং লটে সারি সারি পরিত্যক্ত গাড়ি পড়ে থাকতে দেখা যাবে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ওমান থেকে প্রবাসীরা কর্মীদের আকস্মিক এবং অপ্রত্যাশিতভাবে চলে যাওয়ার সাথে সাথে এমন গাড়ির সংখ্যা বাড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

গাড়ি পরিত্যাক্ত হচ্ছে কারণ সম্ভাব্য ক্রেতা না পাওয়া আর করোনা পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট অফিস বন্ধ থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বিক্রয় কাজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সম্ভব না হওয়ায়। ত্রেতা না পাওয়ায় বিপাকে আছেন ওমান ছাড়তে যাওয়া প্রবাসীরা, এমন তথ্য ওঠে এসেছে ওমান অবজারভারের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে।

ওমানে চাকরি হারিয়ে, নয়তো স্বাস্থ্য সংকটে পড়ে অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে যাচ্ছেন। গত প্রায় দুমাস ধরে কয়েকটি দেশের দূতাবাসও আটকেপড়া হাজার হাজার প্রবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ফলশ্রুতিতে এরই মধ্যে ওমান থেকে অনেক প্রবাসী বিশেষ ফ্লাইটে নিজ দেশে ফিরে গেছেন এবং যাচ্ছেন। অবশ্য এ তালিকায় বাংলাদেশ নেই, করোনাকালে এ পর্যন্ত ওমান থেকে কোন বাংলাদেশির দেশে ফেরার সুযোগ হয়নি। দেরিতে হলেও বাংলাদেশ দূতাবাস শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার আগ্রহীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে।

করোনাকালে ওমানে চাকরিচ্যূত এক বিক্রয়কর্মী নিয়াস আহমেদ তার গাড়ির জন্য একজন ক্রেতা খুঁজে পেয়েছিলেন কিন্তু সে সময় লাইসেন্স অধিদপ্তর বন্ধ থাকার কারণে, তিনি বিক্রয় চুক্তি করতে পারেননি শেষমেশ। তিনি বলেন, “আমি দেশে ফিরে যেতে ফ্লাইটের জন্য দূতাবাসে নিবন্ধন করেছি। কিন্তু আমি কিভাবে এই গাড়িটি এভাবে ফেলে রেখে চলে যাব তা বুঝতে পারছি না কারণ ওমানে আমার ফিরে আসাটা অনিশ্চিত। ”

আরও পড়তে পারেন : ওমানে করোনাকালে শুধু ১০০ রিয়ালেই বিয়ে!

প্রসঙ্গত ওমানে যানবাহন স্থানান্তর আইন অনুযায়ী যে কোন ব্যক্তিগত ব্যবহৃত যানবাহন ক্রয় বা বিক্রয় সম্পর্কিত লেনদেন দেশটির পুলিশের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। আইনে বলা হয়েছে, “বিক্রেতাকে অবশ্যই রয়েল ওমান পুলিশের (আরপি) ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের লাইসেন্স অধিদপ্তরের সামনে হাজির হয়ে যানবাহন বিক্রয়ের কাজটি সম্পন্ন করতে হবে।”

তবে এখন আরওপির সেবা কার্যক্রম আবার চালু হয়েছে বটে তবে গাড়ির ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ প্রয়োজন এমন ক্রেতা হাতে নগদ টাকা নেই, এমন কি করোনা সংকটে এ বিষয়ে আগ্রহও নেই।

গাড়ি নিয়ে বিপাকে পড়া একটি কোম্পানি থেকে চাকরি হারানো কর্মী আজু রামন জানান, তার গাড়ি বিক্রি করার উপরই নির্ভর করছে দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি। তিনি বলেন, “আমার কোন ব্যাংক ব্যালেন্স নেই। আমার ভ্রমণ ব্যয়ের ব্যবস্থা করতে আমাকে গাড়ি বিক্রি করতে হবে। তবে এখানে এখন কোন ক্রেতা নেই।”

এভাবে আরো অনেক প্রবাসীদের দেশ ছেড়ে যাওয়াটা কঠিন হয়ে পড়েছে কারণ টিকেটের অর্থের জন্য তাদের আর অন্য কোন উৎস নেই।

সমাজকর্মী শামির পি টি কে বলেন, “এদের অনেকের অবস্থা খুবই করুণ। এদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা এখনো টাকা যোগাড় করতে না পারায় পরিবার নিয়ে আটকে আছে। তারা নানা উপায়ে টাকা উপার্জনের চেষ্টা করছে। বিধিনিষেধ থাকায় তারা তাদের গৃহস্থালী নানা সামগ্রীসহ অনেক সম্পত্তি বিক্রিতে ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছে না। ”

তিনি আরো বলেন, এখন যদি কোন গাড়ির মালিক তার গাড়ি বিক্রি না করে দেশে ফেরত যায় এবং পরে ফিরে আসতে না পারে, তাহলে তেমন অনেক গাড়ি পরিত্যাক্ত হবে এবং পরিবেশগত সমস্যার সৃষ্টি করবে।

প্রকৌশলী ও পরিবেশবিদ কালপেশ মেহতাও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, এইসব পরিত্যক্ত গাড়ি কেবল প্রকাশ্যে যত্রতত্র জায়গা দখল করবে না সাথে পরিবেশগত ঝুঁকিও তৈরি করবে। ”

মাসকাট পৌরসভার একজন কর্মকর্তা আশংকা করছেন যে, ২০০৮ সালে পরবর্তী পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে পারে। যখন অনেক গাড়ির মালিক ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বিমানবন্দরের মত পাবলিক পার্কিং স্লটে তাদের গাড়ি ফেলে রেখে চলে যায়।

তিনি বলেন, “পরিত্যক্ত গাড়ির এই সমস্যটি অনেক শহরেই ঘটে। এর কারণে গাড়ি পড়ে থাকা এলাকাগুলোর সৌন্দর্য নষ্ট হয় এবং স্বাস্থ্যগত এবং পরিবেশগত ক্ষতির সৃষ্টি হয়। ”

করোনাময় বিশ্ব: জনশক্তি রপ্তানি খাত কোন পথে

আবিদা ইসলামরাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশ দূতাবাস, দক্ষিণ কোরিয়ানাহিদা সোবহানরাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশ দূতাবাস,জর্ডান

Posted by AkashJatra on Sunday, June 21, 2020

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Loading...