ওমানে নতুন লকডাউনকে ঘিরে সুপ্রিম কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

0

বিমান সংস্থা বা তাদের অনুমোদিত সংস্থাগুলির মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে যে কেউ দেশের বাহির থেকে ওমানে ফিরতে পারবেন। অবশ্যই তাকে নিজ দায়িত্বে ও নিজ খরচে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এছাড়া ওমানি বেসরকারি হাসপাতালে পিসিআর পরীক্ষার জন্য ৪৫ ওমানি রিয়াল লাগবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সুপ্রিম কমিটির ১৩ তম বিশেষ সংবাদ সম্মলনে এইসব সিদ্ধান্তসহ আগামী ২৫ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত নতুন করে ১৫ দিনের লকডাউনের বিষয়ে নানা নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আহমেদ বিন মোহাম্মদ আল-সাইদি সভাপতিত্বে সম্মেলনে দেশটিতে করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে সর্বশেষ আপডেটগুলি সম্পর্কে কথা বলেন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,”যে দুঃখের বিষয়, অল্প সময়ের মধ্যে মহামারী পরিস্থিতি বদলেছে। করোনাক্রান্তের সংখ্যা ক্রমবর্ধমানহারে বৃদ্ধি পাওয়াতে আমরা পুরো দেশে নতুন করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আশা করি এই নতুন লকডাউনের সময় সবাই যে যার অবস্থান থেকে সালতানাতকে সহযোগিতা করবে এবং ৮ আগস্টের পরে আমাদের আর লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানোর দরকার হবেনা।”

তিনি আরও বলেন, আমরা ঠিক জানিনা কবে নাগাদ স্কুল, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা যাবে এবং আমরা এও জানিনা কখন থেকে ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে।

সুপ্রিম কমিটি বলেছে যে, তারা কর্মস্থলে প্রার্থনা বা মধ্যাহ্নভোজনের জন্য কর্মী সংগ্রহের খবর পেয়েছে এবং এই কমিটি সরকারী সেক্টরের কর্মস্থলে কর্মচারীদের সংখ্যা ৩০% কমাতে প্ররোচিত করেছে।

সুপ্রিম কমিটির সংবাদ সম্মেলনে কমিটির পক্ষ থেকে নিচের সিদ্ধান্তাগুলো জানানো হয়;
২৫ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউনের সময় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত সকল প্রদেশের জনসমাগমের জায়গা এবং দোকানগুলি বন্ধ রাখতে হবে।

দুধ, শাক-সবজি এবং মাংসের মতো পণ্য বহনকারী ৩ টনি ট্রাক, জ্বালানী তেল বহনকারী যান এবং রান্নার গ্যাস বহনকারী ট্রাকগুলি কেবলমাত্র সন্ধ্যা ৭ টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত লকডাউনকে কেন্দ্র করে বসানো চেকপয়েন্টগুলো অতিক্রম করতে পারবে।

কারখানাগুলো কেবল দিনের বেলাতেই কাজ করতে পারবে এবং ২৪ ঘন্টা যারা ফ্যাক্টরি পরিচালনা করতে চান তাদেরকে অবশ্যই বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।

নতুন করে লকডাউন সিদ্ধান্তের কারণে পঞ্চম প্যাকেজে বিউটি সেলুনসহ বাণিজ্যিক কার্যক্রম খোলার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে।

লকডাউন সময়কালে জনগণের চলাফেরা বা যানবাহনে চলাচলের কোন অনুমতি দেওয়া হবে না।

লকডাউন সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনকারীকে ১০০ ওমানি রিয়াল (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২২ হাজার টাকা) জরিমানা করা হবে।

বিমান সংস্থা বা তাদের অনুমোদিত সংস্থাগুলির মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে যে কেউ দেশের বাহির থেকে ওমানে ফিরতে পারবেন।

ওমান আসতে হলে অবশ্যই তাকে নিজ দায়িত্বে ও নিজ খরচে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

পিসিআর পরীক্ষা (করোনাভাইরাস) জন্য ৪৫ রিয়াল এর বেশি লাগবেনা এবং অ্যান্টিবডি টেস্টগুলি বেসরকারী হাসপাতালে ১৪ রিয়ালের বেশী নিবেনা।

বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় বিদেশে যারা ছয় মাসেরও বেশি সময় বাইরে অবস্থান করেছেন তাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রাপ্ত বিশেষ অনুমতি অনুযায়ী ফিরতে দেওয়া হবে।

এক প্রদেশের শ্রমিকরা অন্য প্রদেশের চেকপয়েন্টগুলো অতিক্রম করার অনুমতি নেই, তবে প্রদেশের অভ্যন্তরে যে যার কর্মস্থলে যেতে পারবেন।

লকডাউন চলাকালীন সন্ধ্যা সাতটার পরে যাদের ফ্লাইট রয়েছে তারা বিমানের টিকিট এবং পাসপোর্ট উপস্থাপন করে বিমানবন্দরে যেতে পারবেন।

যাদের সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের কনফার্ম অ্যাপয়েন্টমেন্ট রয়েছে তারা এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশ যেতে পারেন তবে শর্ত থাকে যে রোগীর অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ নিশ্চিত করে এমন ট্যাক্স মেসেজ দেখোতে হবে।

চেকপয়েন্টগুলি অতিক্রম করার কোন সুযোগ নেই, তবে যাদের ক্রস করার কোন বিকল্প নেই তাদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেক্র অনুমতিপত্রে আনতে হবে।

লকডাউনের সময় যারা মাস্কট বিমানবন্দরে বিদেশ ভ্রমণ করতে যান তাদের অবশ্যই চেকপয়েন্টে বিমান টিকিটসহ ভ্রমণের নথিগুলি প্রদর্শন করতে হবে এবং বিমানবন্দরে ড্রপ করতে তার সঙ্গে শুধু গাড়ি চালক থাকতে পারবেন।

মাস্কাটের সাথে মুসান্দাম প্রদেশের ফ্লাইট এবং ফেরি যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।

ওমানিদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে যে গন্তব্যে তারা যাচ্ছেন তার একটি অনুমোদিত স্বাস্থ্য বীমা থাকতে হবে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, জাতীয় জরিপ এর প্রথম পর্যায়ে ৪৬০০ জনের কোভিড ১৯ পরীক্ষা করা হয়েছে। সুলতানেতে সবচেয়ে কম বয়সে মৃত্যুর রেকর্ডটি ২২ বছরের এক বালকের। আমাদের বাচ্চাদের যত্ন বাড়াতে হবে এবং তাদের সংক্রমণ বৃদ্ধি ঠেকাতে। ১ মাস থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪৫৮৩ শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কনফারেন্সে জানান যে, হাসপাতালে ভর্তি সংখ্যা কম, সাথে সাথে মৃত্যুর হারও কম। সুলতানাতের স্বাস্থ্য খাত এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন রয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ৮২% ওমানি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওমানের ভ্যাকসিনটি পাওয়া গেলে আমরা সুরক্ষার জন্য পদক্ষেপগুলো দ্রুত শুরু করবো। তিনি বলেন, আমরা ভ্যাকসিনগুলির ক্লিনিকাল ট্রায়ালগুলিতে অংশ নেওয়ার আশা করি যাতে সেগুলি কেনার ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রাধিকার থাকে। সুলতান কাবুস বিন সাইদের (র) আমলে ৩ মিলিয়ন ডলার দিয়ে ভ্যাকসিন তৈরির প্রচেষ্টা আরম্ভ করেছিলেন।

কেমন আছেন কাতারপ্রবাসী বাংলাদেশিরা

কেমন আছেন কাতারপ্রবাসী বাংলাদেশিরাবীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক চৌধুরী, উপদেষ্টা – বাংলাদেশ কমিউনিটি, কাতারমোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন , বিজনেস ম্যানেজার, আল-জামান এক্সচেঞ্জ, আমিন রসুল (সাইফুল), সেক্রেটারি-জেনারেল – বাংলাদেশ কমিউনিটি কাতার সমন্বয় ও সহযোগিতা : নুর মোহাম্মদ, লেখক ও সাংবাদিকসঞ্চালনায় : আহমেদ তোফায়েল, সাংবাদিক ও উপস্থাপক

Posted by AkashJatra on Monday, July 20, 2020

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Loading...