উহানে ব্যবহৃত উড়োজাহাজে চড়তে নারাজ কোরিয়ানরা

করোনাভাইরাস আতংক

0

নিজ দেশের নাগরিকদের উদ্ধারে চীনের করোনাভাইরাস উপদ্রুত উহান উড়ে যায় কোরিয়ান এয়ারের দুটি উদ্ধারকারী উড়োজাহাজ। দুই দফায় প্রায় ৭’শ কোরিয়ান নাগরিককে উদ্ধার করে দেশে নিয়ে আসে কোরিয়ান এয়ারের বিশেষ ফ্লাইট দুটিতে ।

এই দুটি ফ্লাইটে আসা কোরিয়ানদের মধ্যে ২৫ জনের শরীরের ভাইরাস থাকার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাদের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকীদের নিয়ে যাওয়া হয় ১৪ দিনের পর্যবেক্ষণ ক্যাম্পে।

নাগরিকদের ফিরিয়ে আনায় জাতীয় পর্যায়ে এক ধরনের স্বস্তি দেখা দিলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মরণঘাতি ভাইরাসের একেবারে উৎপত্তিস্থল উহানের বাতাস লাগিয়ে আসা এই বিমানগুলো জন্ম দিয়েছে বিতর্কের। এসব উড়োজাহাজ থেকে ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই চিকিৎসকদের এমন আশ্বাসের পরও সেগুলোতে চড়া নিয়ে জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা আশংকার।

উহান ফেরত ফ্লাইটগুলোকে পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে সরকারের এমন আশ্বাসের পরও সেসব ব্যবহার নিয়ে নানা কথা শুনতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। এক্ষেত্রে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের আশ্বাসও খুব একটা সন্তুষ্ট করতে পারছে না পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে বিশেষভাবে খুতখুতে এই জাতিকে।

রিয়েল-টাইম এয়ার ট্র্যাফিক ট্র্যাকার ফ্লাইট রাডার টুয়েন্টিফোর এর তথ্যমতে, উহান যাওয়া কোরিয়ান এয়ারের প্রথম ফ্লাইটটির বয়স ২২ বছর যেটি একটি বোয়িং ৭৪৭। এই উড়োজাহাজটি বিমানসংস্থাটির অন্যতম জনপ্রিয় ইনচিয়ন-বালি রুটে পরিচালিত হয়।

কোরিয়া হেরাল্ড পত্রিকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তিরিশোর্ধ অফিস কর্মকর্তা বলেন “যদিও বিমানসংস্থাটি বলেছে যে তারা উড়োজাহাজটির অভ্যন্তরকে জীবাণুমুক্ত করেছে, উহানফেরত লোকজনকে নিয়ে আসায় আমি তা ব্যবহার করব না। উহান থেকে যারা এসেছেন তাদের প্রতি আমার কোনও প্রকার বিদ্বেষ নেই, তবে তারা যেহেতু ভাইরাসের কেন্দ্র থেকে এসেছে সেহেতু ব্যক্তিগতভাবে আমি বিমানটি ব্যবহারে অস্বস্তি ও উদ্বেগ বোধ করছি।”

এ নিয়ে অন্য আরো কয়েকজন পত্রিকাটিকে জানিয়েছেন, যদিও তারা ধারণা করতে পারছেন যে উড়োজাহাজটিকে কীভাবে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে তবে এটিতে চড়ে বসতে তাদের মধ্যে এক ধরনের “অস্বস্তি বোধ” কাজ করবে। এদের মধ্যে কেউ কেউ বলে বসেছেন যে তারা আগেই এই বিমানটির সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেন তবে তারা টিকেট পরিবর্তন করে নিতেন।

এদিকে কোরিয়ান এয়ার বলছে, উহান ফেরত যাত্রীদের নিয়ে আসার পর উড়োজাহাজগুলোকে টানা তিন ঘন্টা জীবাণুমুক্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এসবের প্রতিটি ট্রে টেবিল এবং আসন, আসনের হাতল এমডি-১২৫ জীবাণুনাশক রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করে নিরাপদ করা হয়েছে। এই রাসায়নিক ব্যবহার করলে যে কোন কিছুই টানা সাত দিন পর্যন্ত জীবাণুমুক্ত থাকে।

প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, উড়োজাহাজগুলোর ভেতরের সমস্ত নরম উপাদান যেমন, সিট কভারগুলো সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা হয়েছে। অন্যদিকে কেবিনের ভেতরের বাতাস শোধনকারি ব্যবস্থাটি উন্নত করে নতুন উচ্চ-ক্ষমতার ব্যবস্থা যোগ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে হেপা ফিল্টার নামে বিশেষ ধরনের প্রযুক্তি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, উহান ফেরত বিমানগুলোর ভেতরে করোনভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশংকা শূন্যের কাছাকাছি। লি জায়ে গাপ নামে গাংনাম সুংশিম হাসপাতালের সংক্রামক রোগ ইউনিটের একজন অধ্যাপক গণমাধ্যমে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, বায়ু সঞ্চালন ব্যবস্থা চালু থাকলে যে কোন উড়োজাহাজের অভ্যন্তরে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে যাওয়ার খুব কম সম্ভাবনা থাকে। রয়েছে, বিশেষত যখন বায়ু সঞ্চালন ব্যবস্থা সক্রিয় থাকে।

কোরিয়ান এয়ার জানায়, তাদের উড়োজাহাজটিতে বায়ু পরিস্রাবণের যে ব্যবস্থা তার সাথে যে কোন হাসপাতালের বায়ু সঞ্চালন ব্যবস্থার পুরোপুরি মিল রয়েছে। যখন একটি বিমান ৯০০০ মিটার উচ্চতায় উড়ে যায়, তখন বিমানের বাইরের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে যায়। এসময় বিমানের বাইরের বাতাসকে উষ্ণ করার মধ্য দিয়ে, বায়ু সঞ্চালন ব্যবস্থাটি কেবিনে বিশুদ্ধ বাতাস প্রবেশ করায়

কোরিয়ান এয়ারের এক কর্মকর্তা দ্যা কোরিয়া হেরাল্ডকে বলেছেন, “ফ্লাইট চলার সময় এটি নিয়মিত ব্যপার হল কেবিনে বিশুদ্ধ বাতাস প্রবেশ করা। এর ফলে বিমানের অভ্যন্তরে কোন ভাইরাস সংক্রমণ অসম্ভব একটি বিষয়।”

উহানে যাওয়া প্রথম ফ্লাইটটিতে কোরিয়ান নাগরিকদের সাথে নিয়ে এসেছিলেন কোরিয়ান এয়ারের প্রধান কর্মকর্তা ওয়াল্টার চো এবং ১৫ জন কেবিন ক্রু। উহান ফেরত নাগরিকদের পর্যবেক্ষণ ক্যাম্পে নেয়া হলেও এক্ষেত্রে চো এবং বিমান ক্রু’রা বিশেষ এক ধরনের স্যুট পড়ে থাকায় তাদের সেটির দরকার পড়েনি।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।