উড়োজাহাজের জ্বালানি সংকটের শঙ্কায় ইউরোপ, মজুত মাত্র তিন সপ্তাহের

জেট ফুয়েলের (উড়োজাহাজের জ্বালানি) ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ইউরোপজুড়ে বিমানবন্দরগুলোতে, যা আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রকট হতে পারে। এতে আসন্ন গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও ফ্লাইট সূচি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে বলে সতর্ক করেছে এয়ারপোর্টস কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল (এসিআই) ইউরোপ।

সংস্থাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবহন কমিশনার অ্যাপোস্টোলোস টিজিটজিকোস্টাসকে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, যদি আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে পুনরায় চালু না হয়, তাহলে ইউরোপজুড়ে জেট ফুয়েলের গুরুতর সংকট দেখা দিতে পারে।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে পরিচালিত সামরিক পদক্ষেপের জেরে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। এই প্রণালিটি উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান পথ। এর ফলে মার্চ মাস থেকে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। যুদ্ধের আগে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম যেখানে ছিল প্রায় ৭২ ডলার, তা এখন বেড়ে প্রায় ৯৬ ডলারে অবস্থান করছে।

Travelion – Mobile

এদিকে জেট ফুয়েলের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় বৈশ্বিক জেট ফুয়েলের দাম দ্বিগুণ হয়ে টনপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৬৫০ ডলারে পৌঁছেছে। এশিয়ায় এই বৃদ্ধির হার ১৬৩ শতাংশ এবং ইউরোপে ১৩৮ শতাংশ।

Diamond-Cement-mobile

ইউরোপের সবচেয়ে বড় বাজেট এয়ারলাইন রায়ানএয়ার-এর প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও’লরি সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপের মধ্যে যুক্তরাজ্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ তারা কুয়েতের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপে আসা শেষ দিকের জেট ফুয়েলবাহী ট্যাংকারগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে শুরু করেছে। যেমন, একটি ট্যাংকার ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে পৌঁছানোর পথে রয়েছে এবং আরেকটি নেদারল্যান্ডসের রটারডামে আংশিক সরবরাহ দিয়েছে। তবে নতুন সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ইউরোপীয় দেশগুলো এখন বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহে এশিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ সীমিত। ফলে এই খাতটি বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এই পরিস্থিতির প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলে পড়তে শুরু করেছে। অনেক এয়ারলাইন ফ্লাইটের সংখ্যা কমাচ্ছে এবং ভাড়া বাড়াচ্ছে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে। তবে যদি সরাসরি জ্বালানি ঘাটতি দেখা দেয়, তাহলে ভ্রমণ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

আইএটিএর মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে গেলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগবে। এতে ২০২৬ সালে যাত্রী পরিবহনে প্রত্যাশিত ৪.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!