উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

0

উজবেকিস্তানের যথাযথ মর্যাদায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। শুক্রবার (২৬ মার্চ) সকালে রাজধানী তাশখন্দে দূতাবাস চত্বরে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করেন উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জাহাঙ্গীর আলম। এরপরে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

দূতাবাসের হলরুমে আয়োজিত দিবসের মুল অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে দেয়া রাষ্ট্রপতির ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বার্তা পাঠ করেন মিশনের উপ-প্রধান নৃপেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ।

অনুষ্ঠানে উজবেকিস্তানের প্রাক্তন সংস্কৃতি মন্ত্রী তুরসুনালী কুজিয়েভ, উজবেকিস্তানে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত মনীশ প্রভাত, ভারতে প্রাক্তন উজবেকিস্তানে রাষ্ট্রদূত সুরত মিরকাসিমভ, বাংলাদেশের ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পুরস্কার’ বিজয়ী উজবেকিস্তানের খ্যাতনামা ভাষা গবেষক ড. ইসমাইলভ গুলম মিরজায়েভিচ, বাংলাদেশি কমিউনিটির গোলাম নবী, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী লেকিম ইব্রাহিমোভ উপস্থিত ছিলেন।

উজবেকিস্তানে বাংলাদেশ দূতাবাসে স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সাংস্কৃতিক আয়োজন
উজবেকিস্তানে বাংলাদেশ দূতাবাসে স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সাংস্কৃতিক আয়োজন

রাষ্ট্রদূত জাহাঙ্গীর আলম তাঁর বক্তব্যে শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী ও স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর অবিসংবাদিত নেতৃত্বে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। সেই সঙ্গে তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে যেসব লাখো শহীদ দেশের জন্য অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিসংগ্রাম ও তৎপরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর অনন্য নেতৃত্ব ও অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ যুদ্ধ–পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে কীভাবে যাত্রা শুরু করেছিল এবং সেই অবস্থান থেকে কীভাবে আজ একটি গর্বিত এবং আত্মবিশ্বাসী দেশে পরিণত হয়েছে, রাষ্ট্রদূত তা ব্যাখ্যা করেন।

অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও পরিবেশন করা হয়। এতে উজবেকিস্তানের শিল্পী ও বাংলাদেশের শিশু-কিশোররা অংশ নেয়।

এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে শিশুদের জন্য বঙ্গবন্ধুর উপর বিশেষ ‘উপস্থিত ভাষণ’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন রাষ্ট্রদূত। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ফারিহা মারজান, ২য় স্থান অধিকার করে ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বুশরা কাজী তাসনিয়া ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির হোজিয়কবার। এছাড়াও মহিলাদের জন্য মিউজিক্যাল পিলো এবং পুরুষদের ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ খেলার প্রতিযোগিদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন