উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতির কাছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ

0

উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি শওভকত মির্জিওয়েভের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন দেশটিতে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত মো. জাহাঙ্গীর আলম।

শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানী তাসখান্দে রাষ্ট্রপতির সরকারী কার্যালয় কুকসারয় প্যালেসে ঐতিহ্যবাহী ও আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে তিনি পরিচয়পত্র পেশ করেন।

‘বাংলাদেশ ভবন’ হতে মোটর শোভাযাত্রা সহযোগে প্যালেসে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল রাষ্ট্রদূত মো. জাহাঙ্গীর আলমকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। রাষ্ট্রদূত সালাম গ্রহনকালে বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

পরিচয়পত্র পেশের পর উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের মধ্যে একটি সৌজন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রদূত তাঁকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছিয়ে দেন।

রাষ্ট্রপতি শওভকত মির্জিওয়েভের উজবেকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক এবং বহুমুখী সহযোগিতা জোরদার করার জন্য রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বশীল এবং সম্মানজনক মিশন বাস্তবায়নে সাফল্য কামনা করেন।

উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি বলেন, “বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষ প্রচলিত আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও পবিত্র ধর্মের মাধ্যমে ঐতিহাসিকভাবে সংযুক্ত”।

বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে, রাষ্ট্রদূত জাহাঙ্গীর আলম বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা গ্রহণের সংকল্প ব্যক্ত করেন। তিনি উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক পরামর্শ, টেক্সটাইল শিল্প, ওষুধ, কৃষি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়টি ওঠে আসে। বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য এবং পর্যটন প্রবাহ বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে, যোগাযোগ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি যৌথ আন্তঃসরকারী কমিশনের সম্ভাবনা সম্পূর্ণরূপে কাজে লাগানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের ১৯৮৬ ব্যাচের কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম গত বছরের অক্টোবরে উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেন। একই সঙ্গে তিনি আফগানিস্তান, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার অতিরিক্ত সচিব পদে ছিলেন।

পূর্বের কর্মস্থল অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডির এশিয়া ও জেইসি অণুবিভাগে যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশ-ভারত বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় আন্তমন্ত্রণালয় প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশ পক্ষে নেতৃত্ব দিয়ে এলওসি চুক্তি সম্পাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ইআরডিতে ডেভেলপমেন্ট ইফেকটিভনেস অণুবিভাগে দায়িত্ব পালনকালে ইআরডির এসডিজি বিষয়ক অলটারনেট কো-অর্ডিনেটরের বিশেষ দায়িত্ব পালনসহ জাতিসংঘ কর্তৃক বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সুপারিশ লাভের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিভিন্ন কমিটিতে ইআরডি থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা পালন করেন।

মেহেরপুরে জন্ম নেওয়া জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন