মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ শরীফ আল সামসির নির্দেশে তাদের আটক করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা অনলাইনে এমন ভিডিও ও তথ্য ছড়িয়েছিল যা জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে এবং দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।
তিনটি দলে বিভক্ত ছিল অভিযুক্তরা
তদন্তে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা তিনটি আলাদা দলে কাজ করছিল।
প্রথম দল:
এই দলের সদস্যরা ইউএই আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র চলাচল বা প্রতিরোধের বাস্তব ভিডিও এবং হামলার পরের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। তারা এসব ভিডিওতে এমন মন্তব্য ও শব্দ যুক্ত করে যেন দেশে সরাসরি হামলা চলছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। এছাড়া এসব ভিডিও দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ায়।
এই দলে ভারত, নেপাল, মিশর, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের ১২ জন নারী-পুরুষ রয়েছে।
দ্বিতীয় দল:
এই দলের সদস্যরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করে। কিছু ক্ষেত্রে অন্য দেশের ঘটনার ভিডিও ইউএইতে ঘটেছে বলে প্রচার করা হয়। এসব ভিডিওতে বিস্ফোরণ, আগুন বা ধোঁয়ার কৃত্রিম দৃশ্য দেখানো হয় এবং বিভিন্ন আমিরাতের নাম বা পতাকা ব্যবহার করে ভিডিওকে সত্য বলে মনে করানোর চেষ্টা করা হয়।
এই দলে ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশের সাতজন পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তৃতীয় দল:
এই দলের সদস্যরা একটি শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র ও তার রাজনৈতিক-সামরিক নেতৃত্বকে প্রশংসা করে কনটেন্ট প্রকাশ করছিল। তারা ওই রাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডকে “সাফল্য” হিসেবে তুলে ধরে এবং সমর্থনের আহ্বান জানায়।
এই দলে ভারত ও পাকিস্তানের ছয়জন পুরুষ রয়েছে।
দ্রুত বিচার হবে
অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামসি জানিয়েছেন, তিনটি দলের সদস্যদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। তদন্ত চলাকালে তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং জননিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সব খবর জানতে, এখানে ক্লিক করে আকাশযাত্রার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকার অনুরোধ


