প্রায় তিন বছর ধরে লয়্যালটি প্রোগ্রাম, বুকিং এবং আইটি সিস্টেম একীভূত করার কাজ শেষ করে, ওমান এয়ার এবার ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়ানওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্সে যোগ দিচ্ছে।
ওমান এয়ারের সিইও কন করফিয়াতিস স্থানীয় গণমাধ্যমে বলেন, “আমরা খুবই আনন্দিত যে ৩০ জুন থেকে ওয়ানওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্সের সদস্য হতে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে অন্যান্য এয়ারলাইনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করে আমাদের ফ্লাইট নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হবে। কারণ, সব গন্তব্যে আমাদের সরাসরি ফ্লাইট চালানো সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের অংশীদারদের সহায়তায় যাত্রীদের জন্য বিশাল নেটওয়ার্ক সুবিধা দিতে চাই। অক্টোবর থেকে লন্ডনের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে, যা আমাদের উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সঙ্গে সংযোগ উন্নত করবে।”
ওয়ানওয়ার্ল্ড হলো একটি বৈশ্বিক বিমান সংস্থা অ্যালায়েন্স, যার সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ১৩টি: আলাস্কা এয়ারলাইন্স, আমেরিকান এয়ারলাইন্স, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ক্যাথে প্যাসিফিক, ফিনায়ার, আইবেরিয়া, জাপান এয়ারলাইন্স, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, কোয়ান্টাস, কাতার এয়ারওয়েজ, রয়্যাল এয়ার মারোক, রয়্যাল জর্ডানিয়ান এবং শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্স। এ ছাড়া আরও ২০টির বেশি সহযোগী বিমান সংস্থা রয়েছে।
এই অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে ওমান এয়ারের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বিস্তার হবে, অংশীদারদের মাধ্যমে বিশ্বের ৯০০+ গন্তব্যে সংযোগ মিলবে। যাত্রীরা ওয়ানওয়ার্ল্ডের সদস্যদের লাউঞ্জ, ফাস্ট-ট্র্যাক সিকিউরিটি, অতিরিক্ত লাগেজ সুবিধা, এবং মাইলপয়েন্ট শেয়ারিং পাবে। সদস্য সংস্থাগুলোর যৌথ বুকিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যাত্রীসংখ্যা এবং রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব হবে।আন্তর্জাতিক মানের অ্যালায়েন্সে যোগ দিলে ওমান এয়ারের পেশাদার পরিচিতি ও যাত্রীদের আস্থা বাড়বে। অন্যান্য সদস্য এয়ারলাইনের সঙ্গে কোডশেয়ার চুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর ফ্লাইট অপারেশন সম্ভব হবে। অভিন্ন প্রযুক্তি, বুকিং ও আইটি সিস্টেম ব্যবহারে ব্যয় সাশ্রয় হবে।
এদিকে, ওমান এয়ারের বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই একটি B787 ড্রিমলাইনার এবং আগামী ১২ মাসে আরও কয়েকটি 737-8 ম্যাক্স আসবে। এই নতুন উড়োজাহাজের মাধ্যমে ১ জুলাই থেকে আমস্টারডামে সরাসরি ফ্লাইট চালু হবে।
করফিয়াতিস জানান, “আমস্টারডাম এবং লন্ডনের বাড়তি ফ্লাইট ছাড়াও, এখন থেকে মস্কো সারা বছরব্যাপী একটি গন্তব্য হবে। আপাতত এই রুটগুলোই ঘোষণা করা হয়েছে, তবে আমরা সবসময় তিন-চারটি সম্ভাব্য রুট নিয়ে কাজ করছি।”
গ্রীষ্মকালীন সময়ে নতুন কোনো গন্তব্য যুক্ত না হলেও, সালালাহ রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইট চালু করে যাত্রী পরিবহনে সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এছাড়া, তিনি ভারতে এয়ারপোর্ট স্লট পাওয়া নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও, ভারতের বাইরেও নতুন সুযোগ খুঁজে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ওমান এয়ারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে করফিয়াতিস বলেন, “আমরা আর্থিকভাবে দায়িত্বশীল হতে চাই এবং ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে EBIT ব্রেকইভেন অর্জন করা, এবং আমরা ইতোমধ্যেই সেই লক্ষ্যের চেয়ে এগিয়ে আছি। আমাদের শেয়ারহোল্ডাররা চান আমরা দায়িত্ব নিয়ে এগোই, যেন তারা আমাদের আরও সহায়তা করতে পারেন।”
সব খবর জানতে, এখানে ক্লিক করে আকাশযাত্রার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকার অনুরোধ


